Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

খেলাধুলা

ইরানকে বিশ্বকাপ খেলাতে যে পদক্ষেপ নিল তুরস্ক

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৭:০০ পিএম

ইরানকে বিশ্বকাপ খেলাতে যে পদক্ষেপ নিল তুরস্ক

বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের আর বাকি আছে দুমাস। এই মহারণে অংশ নেওয়ার কথা ইরানি দলেরও। কিন্তু, গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া অসম যুদ্ধের কারণে এ পর্বে খেলা প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। 

যেখানে ইরানিদের স্বাভাবিক জীবন যাপনই ব্যাহত হচ্ছে, বসতবাড়ি, স্কুল, মাদ্রাসা-মসজিদ, খেলার মাঠসহ এমন কোনো স্থাপনা বাদ যাচ্ছে না, যেখানে বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করছে না ওয়াশিংটন ও তেল আবিব; সেখানে বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নেওয়ার তাদের দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছিল। এমন প্রেক্ষাপটে ত্রাতা হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে প্রতিবেশী তুরস্ক।

আরও পড়ুন
ইরান ফুটবল দলের ক্রীড়াবিদদের নিজ দেশে নিয়ে গেছে আঙ্কারা। নজরে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি। ইরানের পুরুষ ফুটবল দল দক্ষিণ তুরস্কে নিবিড় প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। তারা ফিফা বিশ্বকাপের আগে আসন্ন দুটি প্রীতি ম্যাচের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এবারের বিশ্বকাপে এই দলটি বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভূমধ্যসাগরীয় শহর আন্তালিয়ার পার্শ্ববর্তী অবকাশযাপন কেন্দ্র বেলেকে 'টিম মেল্লি' তাদের প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করেছে। বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে এই ম্যাচগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন কর্মকর্তারা। 

তারা জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের মনোযোগ যেন বিক্ষিপ্ত না হয়, তাই সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে সীমিত রাখা হয়েছে।

নিরাপত্তার শঙ্কায় ইরানের বিশ্বকাপ ম্যাচ মেক্সিকোতে সরানোর আলোচনা

খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ইরানের ফুটবল ফেডারেশন তাদের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সঙ্গে আলোচনা করছে। গত সপ্তাহে ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট মেহেদি তাজ এ তথ্য জানান।

বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চলাকালীন ইরানের জাতীয় দল অনেকটা নিভৃতে থাকতেই পছন্দ করছে, কারণ সেখানে তারা তীব্র রাজনৈতিক ও সংবাদমাধ্যমের চুলচেরা বিশ্লেষণের সম্মুখীন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বেলেকে খেলোয়াড় বা কোচদের কোনো সাক্ষাৎকার নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। দলের একজন মিডিয়া প্রতিনিধি জানিয়েছেন যে, স্কোয়াড বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে তাদের আসন্ন প্রতিযোগিতামূলক খেলার সূচির ওপর মনোনিবেশ করছে।

ইরান আন্তালিয়ায় দুটি ম্যাচ খেলবে—শুক্রবার (২৭ মার্চ) নাইজেরিয়ার বিপক্ষে এবং মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) কোস্টারিকার বিপক্ষে।

প্রীতি ম্যাচগুলো শুরুতে জর্ডানে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ইরানের ওপর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেগুলো তুরস্কে সরিয়ে নেওয়া হয়।

রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় অনুশীলন সেশনের সময় খেলোয়াড়দের বেশ ফুরফুরে মেজাজে দেখা গেছে। মাঝেমধ্যে স্টাফ এবং খেলোয়াড়দের একে অপরের সঙ্গে গল্প ও হাসিঠাট্টা করতেও দেখা যায়।

উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন ফরোয়ার্ড মেহেদি তারেমি, যিনি সম্প্রতি গ্রিসের ক্লাব অলিম্পিয়াকোসের হয়ে খেলার সময় একজন ইসরাইলি প্রতিপক্ষের সঙ্গে জার্সি বদল করে বেশ আলোচনায় এসেছিলেন।

স্ট্রাইকার সরদার আজমুনকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। দুবাইয়ের শাসক মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের সঙ্গে একটি সাক্ষাতের ছবি নিজের ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করার পর তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে, ৯১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৫৭টি গোল করা আজমুনকে সরকারের প্রতি ‘অবিশ্বস্ততার’ দায়ে জাতীয় দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার