বিজ্ঞাপন
আইপিএলকে অনন্য উচ্চতায় নিতে মাঠে নামছেন ‘টি-টোয়েন্টি বেবি’রা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম
বিজ্ঞাপন
লখনৌ সুপার জায়ান্টসের অনুশীলনে মুকুল চৌধুরীর ব্যাটিং দেখছিলেন ব্যাটিং কোচ ল্যান্স ক্লুজনার। ৪৫ মিনিটের অনুশীলনে তিনি পেস ও স্পিনের বিপক্ষে ২১ বছর বয়সী এই ব্যাটারের সামর্থ্য দেখে অবাক হয়ে যান। এরপর লখনৌ অধিনায়ক ঋষভ পান্তের কাছে এসে বিস্ময়ের সঙ্গে বলেন, ‘এখনকার বাচ্চারা (অবিশ্বাস্য)!’ কেবল মুকুলই নন, কার্তিক শর্মা, প্রশান্ত বীর, আমান রাও–কে আর ভবিষ্যত তারকা বলা হচ্ছে না, কারণ তারা এবার প্রথমবার আইপিএলে খেলার দ্বারপ্রান্তে।
১৮ বছর বয়সী ক্রিকেটারদের সংখ্যা বাড়ছে আইপিএলে। নতুন প্রজন্মের টি-টোয়েন্টি খেলোয়াড়দের চেন্নাই সুপার কিংসের প্রধান কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং নাম দিয়েছেন ‘টি-টোয়েন্টি বেবি’। যারা সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রস্তুত। ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়ম চালুর পর থেকেই আইপিএলের গড় স্কোর বাড়ছে, গত মৌসুমে বৈভব সূর্যবংশী, প্রিয়াংশ আর্য ও আয়ুষ মাহাত্রের মতো তরুণদের আবির্ভাবে এই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট।
আজ (শনিবার) থেকে শুরু হতে যাওয়া আইপিএলের ১৯তম আসরে সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন মুকুল-কার্তিক-প্রশান্ত-আমানরা। যে টুর্নামেন্টে অভিষেক শর্মাদের মতো খেলোয়াড়দের ভারতীয় ক্রিকেট গ্রেট মহেন্দ্র সিং ধোনি, বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাদের উত্তরসূরি হিসেবে প্রত্যাশা করা হচ্ছিল, সেখানে নতুন জায়গা নিতে যাচ্ছে ‘টি-টোয়েন্টি বেবি–রা’। একসময় অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা করা চেন্নাই এখনকার পরিবর্তনের সঙ্গে খুব ভালোভাবেই মানিয়ে নিয়েছে। গত মৌসুমে ‘টি-টোয়েন্টি বেবিদের’ ব্যাটিং নিয়ে সন্দিহান থাকলেও, পরে নিজের দলের পারফরম্যান্স দেখেই মত বদলালেন ফ্লেমিং।
সাবেক এই কিউই অধিনায়ক যে আয়ুষ মাহাত্রে ও ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধ, তার স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে এবারের আইপিএলের নিলামে। তিনি নিলামে কার্তিক ও প্রশান্তকে ১৪.২০ কোটি রুপিতে দলে নিয়েছেন। যা চেন্নাইয়ের জন্য বেশ অস্বাভাবিক সিদ্ধান্ত বলেও মনে হয়েছে, তবে একইসঙ্গে আইপিএলের ভবিষ্যৎ কোন পথে ছুটছে সেই দিক-নির্দেশনাও স্পষ্ট করে দেয়। ফ্লেমিং বলছেন, ‘আগে মনে করতাম অভিজ্ঞতাই জিতিয়ে দেবে। কিন্তু এখন এমন নির্ভীক খেলোয়াড় উঠে আসছে, যারা টি-টোয়েন্টি খেলেই বড় হয়েছে। তাদের দক্ষতা অসাধারণ, এমনকি তারা কোনো চাপ অনুভব করে না।’
টি-টোয়েন্টিতে একসময় ১৩৫-১৫০ স্ট্রাইকরেটের ব্যাটসম্যানদের বেশ মূল্যবান মনে করা হলেও, সেই মানসিকতায় বদল এসেছে। যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ গত ১৮ মাসে অভিষেক শর্মা (১৭৩.১৪), টিম ডেভিড (১৬২.৩১) ও ব্রেভিসের (১৫৩.৭৭) পারফরম্যান্স। এ ছাড়া সূর্যবংশী (২০৪.৩৭), মাহাত্রে (১৭৫.৪৬) ও প্রিয়াংশ আর্য (১৬৯.১০) দেখিয়েছেন টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং কতটা এগিয়েছে। আগে এমন উচ্চ স্ট্রাইকরেটের ব্যাটারদের মূলত ফিনিশার হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু এখন সেই ধারণায় বড় পরিবর্তন এসেছে। টপঅর্ডারে বিধ্বংসী ব্যাটারদের চাহিদা বাড়ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ পাওয়ার-হিটিংয়ে বিশেষজ্ঞ কোচ জুলিয়ান উড উদ্ধৃতি দিয়ে বলছে, ‘ভারত গত এক বছরে অসাধারণ করেছে। অনেক খেলোয়াড় উঠে আসছে, যারা দুর্দান্ত পাওয়ার হিট করতে পারে। টিম ডেভিড ও ব্রেভিসকে আগে ফিনিশার ভাবা হতো, এখন তারা উপরের দিকে ব্যাট করছে।’ নতুন প্রজন্মের ব্যাটিংয়ে দ্রুত হাতের ব্যবহারকে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। যেখানে ফুটওয়ার্কের চেয়ে হাতের গতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তারা খুব দ্রুত বলের লেন্থ বুঝতে পারে এবং ছোটবেলা থেকেই টি-টোয়েন্টিতে অভ্যস্ত হওয়ায় সবসময় আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলে।
তবে তারুণ্যনির্ভর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও থাকছে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পদচারণা। যেখানে বিদেশি ক্রিকেটারদের পাশাপাশি ভারতীয় তারকা কোহলি, রোহিত ও ধোনিরা দর্শকদের স্টেডিয়ামে টানবেন। পাশাপাশি নিজেদের আলাদা জগৎ তৈরি করতে প্রস্তুত ‘টি-টোয়েন্টি বেবিরা’। তরুণদের সাহসী ব্যাটিং নিয়ে ফ্লেমিং ব্যাখ্যা দাঁড় করালেন এভাবে, ‘অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা কখনও কখনও বেশি ভাবতে গিয়ে আটকে যায়। কিন্তু এই তরুণরা খুব স্বতঃস্ফূর্ত, তারা শুধু একভাবেই খেলে। খেলা যত দ্রুত হচ্ছে, তারা তত ভালো করছে।’
বিজ্ঞাপন