বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিশ্বকাপের আর এক মাস সময়ও বাকি নেই। লিওনেল মেসি ঠিক এই সময়ে এসে দারুণভাবে জ্বলে উঠেছেন। আগের ম্যাচে করেছিলেন জোড়া গোল, এবার তিনি গোল নিজে করেছেন, সতীর্থকে দিয়ে করিয়েওছেন। তার এমন নৈপুণ্যে ইন্টার মিয়ামি পোর্টল্যান্ড টিম্বার্সকে হারিয়েছে ২-০ গোলে। আর তাতেই মেজর লিগ সকারের ইস্টার্ন কনফারেন্সের শীর্ষে উঠে এসেছে তার দল।
মেসি বিশ্বকাপে খেলবেন কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। কারণ এই বিষয়ে মতটা তার দেওয়ার কথা, সে মতটা তিনি এখনও খোলাসা করেননি। যদিও তার ইন্টার মিয়ামি ও আর্জেন্টিনা সতীর্থ রদ্রিগো দে পল জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপকে সামনে রেখে মেসির সঙ্গে বিশেষভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
সে প্রস্তুতির ফলটা মিয়ামিও কিছুটা ভোগ করছে বৈকি। বিশ্বকাপের ঠিক আগে শেষ কিছু দিনের খেলা চলছে মেজর লিগ সকারে। সেখানে আগুনে ফর্মে আছেন মেসি। আগের ম্যাচে তিন গোল করলেও শেষ গোলটি তুলে দেওয়া হয়েছিল প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের আত্মঘাতী গোলের খাতায়। ফলে জোড়া গোল লেখা হয়েছিল তার নামে।
মেসি অবশ্য সেসবের কেয়ার করেন থোড়াই। আজও তিনি মাঠে নামলেন, গোল করলেন, করালেন; তার কাছে যা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ— দলকেও জেতালেন। মিয়ামির আরও কিছু অর্জন আছে এই ম্যাচে। এই জয়ে নিজেদের মাঠ নু স্টেডিয়ামে প্রথমবারের মতো জয় তুলে নিয়েছে মেসির দল। এমনকি ন্যাশভিলকে টপকে কিছুক্ষণের জন্য মেজর লিগ সকারের ইস্টার্ন কনফারেন্সের শীর্ষেও উঠে এসেছেন মেসিরা।
মেসির গোলটি এসে ম্যাচের ত্রিশ মিনিটের একটু পরে। মেসি লুইস সুয়ারেজকে পাস দিয়ে আক্রমণ শুরু করেন। এরপর পেনাল্টি স্পটের কাছে ফিরতি বলটা পেয়ে প্রথম ছোঁয়াতেই নিলেন দারুণ এক শট, তার বাঁ পায়ের এই শট গিয়ে আছড়ে পড়ে জালে।
৪২ মিনিটে মিয়ামি পেল দ্বিতীয় গোল। এবার মেসি অবতীর্ণ হলেন সহায়কের ভূমিকায়। এবারও গোলের শুরুটা হলো সুয়ারেজের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে। টিম্বার্সের বেশ কয়েকজন ডিফেন্ডারকে নিজের দিকে টেনে নিলেন। তারপর মেক্সিকোর আন্তর্জাতিক ফুটবলার হার্মান বার্তেরামেকে বাড়িয়ে দেন বলটা, আলতো টোকায় তিনি বলটা জড়ান জালে।
এর ফলে চলতি মৌসুমে মেসির গোল আর অ্যাসিস্ট সংখ্যা দাঁড়াল গিয়ে যথাক্রমে ১২ ও ৬-এ। তবে শেষ কিছু দিনে তিনি তার ফর্মের চূড়ায় আছেন রীতিমতো। চলতি মে মাসে ৪ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। সমান ৫টি করে গোল আর অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।
২০২২ বিশ্বকাপের আগেও এমনই ফর্মে ছিলেন মেসি। বিশ্বকাপের আগে ঠিক ১২ গোল করেছিলেন, তবে সে মৌসুমে পিএসজির হয়ে সব প্রতিযোগিতায় করিয়েছিলেন ১৪ গোল। গোলের সংখ্যা ছুঁয়ে ফেলেছেন, অ্যাসিস্টের দিক থেকে একটু পিছিয়ে থাকলেও তিনি জানান দিচ্ছেন, আরও এক বিশ্বকাপের জন্য ভালোভাবেই প্রস্তুত।
এবার আর্জেন্টিনার চাওয়া কেবল একটাই, এই ফর্মটা যেন বিশ্বকাপেও ধরে রাখেন মহানায়ক মেসি। সেটা হলে যে জার্সিতে তারকা সংখ্যাটা ৪-এ তোলার সম্ভাবনাটাও বেড়ে যায় কয়েকগুণ!