এআই ব্যবহার করে পণ্য নষ্ট দেখিয়ে রিফান্ড, বাড়ছে প্রতারণা
আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:২৪ পিএম
ডাবল ইলেভেন শপিং ফেস্টিভ্যালকে কেন্দ্র করে চীনে অনলাইন বিক্রেতাদের নতুন এক ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে। ক্রেতাদের একটি অংশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে পণ্য নষ্টের ভুয়া ছবি তৈরি করে রিফান্ড দাবি করছে। বিষয়টি নৈতিক ও আইনি উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
প্রতারণার কৌশল হিসেবে প্রথমে ক্রেতারা আসল পণ্যের ছবি তোলে, পরে এআই দিয়ে সেটিকে পচা, ভাঙা বা ক্ষতিগ্রস্ত দেখিয়ে বিক্রেতার কাছে পাঠায়। একজন ফল বিক্রেতা অভিযোগ করেন, তার পাঠানো তাজা ফলের ছবি এআই সম্পাদনার মাধ্যমে পচা দেখিয়ে রিফান্ড দাবি করা হয়।
ইলেকট্রিক টুথব্রাশ বিক্রেতা একজন জানান, একজন ক্রেতা তাকে মরিচা ধরা টুথব্রাশের ছবি পাঠিয়ে অর্থ ফেরত চান—যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন। তিনি বলেন, অনেক অভিযোগই ‘মৌলিক যুক্তিবোধের বাইরে’।
একটি পোশাক দোকানের কর্মী বলেন, একজন ক্রেতা এক পিস ড্রেসের কলার ছেঁড়া বলে দাবি করেন এবং যে ছবিটি পাঠান, সেটিতে অস্বাভাবিক আলো আর এআই এডিটিংয়ের স্পষ্ট চিহ্ন চোখে পড়ে।
আরেক ঘটনায়, সিরামিক মগ বিক্রেতা জানান, একজন ক্রেতা মগে মাকড়সার জালের মতো ফাটলের ছবি দেখিয়ে পুরো রিফান্ড চান। নিরাপদ প্যাকেজিং হওয়ায় তিনি বিষয়টি সন্দেহ করেন এবং ভিডিও চাইতেই ক্রেতা অভিযোগ তুলে নেন। পরে ছবিটি এআই-ডিটেক্টরে পরীক্ষা করে দেখা যায়—৯২% সম্ভাবনা এটি কৃত্রিমভাবে তৈরি।
বহুদিন ধরেই চীনা অনলাইন বিক্রেতারা ‘শিপ শিয়ারার্স’ নামের এক চক্রের বিরুদ্ধে লড়ছেন—যারা কম দামের পণ্যে সামান্য ত্রুটি দেখিয়ে রিফান্ড নেয় কিন্তু পণ্য ফেরত দেয় না। বিক্রেতাদের অভিযোগ, অনেক সময় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলো যথাযথ প্রমাণ ছাড়াই ক্রেতাদের পক্ষ নেয়।
এসব প্রতারণা ঠেকাতে চলতি বছরের এপ্রিলে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলো ‘রিফান্ড অনলি’ অপশন বাতিল করেছে। আলিবাবার টাওবাও ও টিমল ক্রেতাদের রিফান্ড আচরণ, ক্রয় ইতিহাস ও বিক্রেতার মতামতের ভিত্তিতে ক্রেতার ‘ক্রেডিট স্কোর’ নির্ধারণের ব্যবস্থাও করেছে।
এ ছাড়া ১ সেপ্টেম্বর থেকে চীন এআই-নির্মিত সব ধরনের কনটেন্টে স্পষ্ট ও গোপন উভয় চিহ্ন যুক্ত করা বাধ্যতামূলক করেছে—যাতে ভুয়া তথ্য বা প্রতারণা কমানো যায়।