Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ট্যুরিজম

আকিলপুর সমুদ্রসৈকত: কী দেখবেন, যাতায়াত ও খরচ

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১২ পিএম

আকিলপুর সমুদ্রসৈকত: কী দেখবেন, যাতায়াত ও খরচ

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামের কাছে প্রকৃতির এক শান্ত ও নিরিবিলি সৌন্দর্যের নাম আকিলপুর সমুদ্রসৈকত। সবুজ গাছপালা, নীল আকাশ আর বঙ্গোপসাগরের ঢেউ—এই তিনের অপূর্ব মিলনে গড়ে উঠেছে এই সৈকত। শহরের কোলাহল ও ব্যস্ততা থেকে দূরে কিছু সময় শান্তভাবে কাটাতে চাইলে আকিলপুর হতে পারে আদর্শ গন্তব্য।

চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে সীতাকুণ্ড উপজেলার নিমতলা গ্রামে অবস্থিত এই সৈকতটি স্থানীয়ভাবে কুমিরা বা বাঁশবাড়িয়া সৈকত নামেও পরিচিত।

কক্সবাজার বা কুয়াকাটার মতো ভিড় না থাকায় দিন দিন এটি ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

ভয় থেকে পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তর

একসময় আকিলপুর এলাকা ছিল জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়প্রবণ। বছরে একাধিকবার প্লাবিত হতো গ্রাম, ক্ষতিগ্রস্ত হতো মানুষের জীবন ও সম্পদ। পরিস্থিতি বদলাতে সরকার ২০১৬-১৭ সালে এখানে বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৯ সালে প্রকল্পটি শেষ হয়।

কংক্রিট ব্লকে তৈরি এই বাঁধ শুধু মানুষকে সুরক্ষা দেয়নি, বরং এলাকার চেহারাও বদলে দিয়েছে। বাঁধের দুই পাশে গাছ লাগানো হয়েছে, যা জায়গাটিকে আরো দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে। এখন এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্পটে পরিণত হয়েছে।

কী দেখবেন আকিলপুরে

আকিলপুরে দীর্ঘ বালুকাবেলা না থাকলেও পাথরের বাঁধে আছড়ে পড়া ঢেউ দেখার অভিজ্ঞতা একেবারেই ভিন্ন। জোয়ারের সময় ঢেউয়ের শব্দ, নোনতা বাতাস আর সামনে বিস্তৃত সমুদ্র; সব মিলিয়ে এক শান্ত অনুভূতি তৈরি করে।

এখানকার সূর্যাস্ত বিশেষভাবে নজরকাড়া। বিকেলে সূর্য যখন ধীরে ধীরে সমুদ্রে ডুবে যায়, আকাশ লাল-কমলা রঙে ভরে ওঠে। ফটোগ্রাফিপ্রেমীদের কাছে এই সময়টি সবচেয়ে প্রিয়।

কী করবেন এখানে

আকিলপুরে এসে পর্যটকেরা বাঁধের ওপর হাঁটতে পারেন, ঢেউ উপভোগ করতে পারেন কিংবা চুপচাপ বসে সময় কাটাতে পারেন। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিক, শিশুদের খেলাধুলা কিংবা ক্যামেরায় প্রকৃতির ছবি তোলার সুযোগও রয়েছে। এখানে সীমিত বসার ব্যবস্থাও রয়েছে বিনা মূল্যে। তবে লাইফগার্ড বা পর্যটন পুলিশের ব্যবস্থা না থাকায় সমুদ্রে নামার সময় সতর্ক থাকা জরুরি।

যাতায়াত ও খরচ

ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে চট্টগ্রাম হয়ে ছোট কুমিরা বাজারে নামতে হয়। সেখান থেকে অটোরিকশায় কয়েক মিনিটেই সৈকতে পৌঁছানো যায়। চট্টগ্রাম শহর থেকেও লোকাল বাস বা ব্যক্তিগত গাড়িতে সহজেই যাওয়া সম্ভব। এক দিনের ভ্রমণে জনপ্রতি আনুমানিক ১৫০০ থেকে ৪০০০ টাকার মধ্যেই ঘুরে আসা যায়। চাইলে সীতাকুণ্ড বা চট্টগ্রাম শহরে রাতযাপনও করা যায়।

আকিলপুর সমুদ্রসৈকত বিলাসী পর্যটন কেন্দ্র না হলেও প্রকৃতি আর প্রশান্তির দারুণ মিলনস্থল। কম ভিড়, খোলা পরিবেশ আর মনোরম সূর্যাস্ত; সব মিলিয়ে এটি এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেয়। যারা ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে প্রকৃতির কাছে ফিরে যেতে চান, তাদের জন্য আকিলপুর হতে পারে চমৎকার একটি ভ্রমণ গন্তব্য। তবে ভ্রমণের সময় নিরাপত্তা মেনে চলা এবং পরিবেশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব সবার।

সূত্র : কুহুডাক

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার