Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

সুখী সংসারের রহস্য

Icon

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম

সুখী সংসারের রহস্য

বিজ্ঞাপন

প্রিয় পাঠক, একটু থামুন। চোখ বন্ধ করুন। ভাবুন–আজ থেকে ঠিক এক বছর পর আপনার সংসার কেমন হতে পারে, যদি প্রতিদিন সকালে উঠে আপনি আর আপনার সঙ্গী একে অপরের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসেন? যদি রাতে ঘুমানোর আগে মনে কোনো ভার না থাকে? যদি আপনার সন্তান দেখে যে বাবা-মা একে অপরকে সত্যিই ভালোবাসেন? এই স্বপ্ন অসম্ভব নয়। বরং আল্লাহ নিজেই এই পথ দেখিয়ে রেখেছেন তার কিতাবে, তার রাসুল (সা.)-এর জীবনে। আমরা শুধু একটু মনোযোগ দিইনি। আজ সেই ১০টি রহস্যের কথা বলব, যা জানলে আপনি নিজেই বলবেন–এই কথাগুলো আগে কেউ কেন বলেনি?

একে অপরকে বোঝা নয়, রহমত মনে করুন

আল্লাহতায়ালা কোরআনে বলেছেন, তিনি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দিয়েছেন ভালোবাসা ও করুণা–মাওয়াদ্দাহ ও রাহমাহ। এই দুটি শব্দ শুধু অনুভূতি নয়, এগুলো সিদ্ধান্ত। প্রতিদিন সকালে উঠে মনে মনে বলুন–এই মানুষটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আমার জন্য রহমত। এই একটি বিশ্বাস আপনার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দেবে। (সুরা রুম, ২১)

প্রতিদিন একটি ভালো কথা বলুন, বিনা কারণে হলেও বলুন

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম যে তার পরিবারের কাছে উত্তম। আর আমি আমার পরিবারের কাছে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম। আজ রাতে, বিনা কারণে আপনার সঙ্গীকে একটা কথা বলুন–‘তুমি থাকলে ভালো লাগে’। দেখুন কী হয়। এই একটি বাক্য ১০০টি ঝগড়ার ক্ষত সারিয়ে দিতে পারে। (তিরমিজি, ৩৮৯৫; ইবনে মাজাহ, ১৯৭৭)

রাগের মুহূর্তে ‘সাত সেকেন্ডের নিয়ম’ মানুন

রাসুল (সা.) বলেছেন, রাগ শয়তানের পক্ষ থেকে আসে এবং শয়তান আগুন দিয়ে তৈরি। আগুন পানি দিয়ে নেভানো হয়। তাই তোমাদের কেউ রাগান্বিত হলে সে যেন অজু করে। (আবু দাউদ, ৪৭৮৪; বুখারি, ৬১১৪)

সংসারের বেশির ভাগ ক্ষত তৈরি হয় রাগের মুহূর্তে বলা একটি কথায়। সেই কথাটি বলার আগে মাত্র সাত সেকেন্ড থামুন। একটা শ্বাস নিন। ভাবুন–এই কথাটি কি আমার সংসারকে শক্ত করবে নাকি ভাঙবে? 

ক্ষমা চাওয়াকে দুর্বলতা নয়, শক্তি মনে করুন

কোরআনে জান্নাতিদের একটি বৈশিষ্ট্য বলা হয়েছে–তারা রাগ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে। আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন। আপনি কি কখনো সত্যিকারের ‘আমি ভুল করেছি, মাফ করো’ বলেছেন? শুধু কৌশলে প্রসঙ্গ এড়িয়ে না গিয়ে? যে মানুষ ভুল স্বীকার করতে পারে, সংসারে তার মর্যাদা কমে না বরং বাড়ে। কারণ এটা সততার সাহস। (সুরা আলে ইমরান, ১৩৪)

স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের হক আদায় করুন, হিসাব নয়

রাসুল (সা.) বিদায় হজের ভাষণে বলেছিলেন, নারীদের বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করো। তোমরা তাদের আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছ। আর স্ত্রীর জন্য স্বামীর অধিকার হলো সে যেন তার ঘরকে অন্যের কাছে অপমানিত না করে।

সংসারে যখন দুজন আমি কতটা দিলাম হিসাব করতে শুরু করে, সেই মুহূর্ত থেকে ভালোবাসা মরতে শুরু করে। পরিবর্তে ভাবুন–আজ আমি কী দিতে পারি? এই একটি প্রশ্নই সম্পর্কের পুরো অর্থনীতি বদলে দেয়। (মুসলিম, ১২১৮)

একসঙ্গে দোয়া করুন–এটাই সবচেয়ে শক্তিশালী বন্ধন

রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ সেই স্বামীকে রহম করুন যে রাতে উঠে নামাজ পড়ে এবং তার স্ত্রীকেও জাগায়। আর সেই স্ত্রীকেও রহম করুন যে রাতে উঠে নামাজ পড়ে এবং তার স্বামীকেও জাগায়। যে দম্পতি একসঙ্গে আল্লাহর সামনে মাথা নোয়ায়, তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়া কঠিন। আজ রাত থেকে শুরু করুন–ঘুমানোর আগে দুজন মিলে একটি দোয়া পড়ুন। শুধু একটি। (আবু দাউদ, ১৩০৮; নাসায়ি, ১৬১০)

সন্তানের সামনে ভালোবাসা দেখান–লজ্জার কিছু নেই

রাসুল (সা.) প্রকাশ্যে তার স্ত্রীদের প্রতি ভালোবাসা দেখাতেন। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুল (সা.) তার পানির পাত্র থেকে পান করতেন এবং সেই একই জায়গায় মুখ রেখে পান করতেন যেখানে আয়েশা (রা.) মুখ রেখেছিলেন। আপনার সন্তান বাবা-মার ভালোবাসা দেখে বড় হলে সে জানে–সংসার মানে শুধু দায়িত্ব নয়, সংসার মানে আনন্দও। এই শিক্ষা কোনো স্কুল দিতে পারে না। (মুসলিম, ৩০০; নাসায়ি, ৭০)

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন 

রাসুল (সা.) বলেছেন, যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ নয়, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞ নয়। আপনার স্ত্রী রান্না করেছেন–বলুন অনেক সুন্দর হয়েছে, জাজাকাল্লাহ। আপনার স্বামী ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরেছেন–বলুন তোমার কষ্টের কথা আমি জানি। এই ছোট ছোট কৃতজ্ঞতার কথাগুলো সংসারের মাটিতে ভালোবাসার বীজ বপন করে। (আবু দাউদ, ৪৮১১)

পরিবারের বাইরে সংসারের কথা প্রকাশ করবেন না

রাসুল (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি সে, যে তার স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হয় এবং পরে সেই গোপন কথা অন্যের কাছে প্রকাশ করে। সংসারের ঝগড়া, দুর্বলতা, গোপন কথা–এগুলো বাইরে গেলে সম্পর্কের শিকড় দুর্বল হয়ে যায়। বন্ধু বা আত্মীয়ের কাছে সঙ্গীর দোষ বলা মানে নিজের ঘরেই আগুন দেওয়া। সংসারের কথা সংসারেই রাখুন। (মুসলিম, ১৪৩৭)

আল্লাহকে সবচেয়ে বড় থেরাপিস্ট হিসেবে গ্রহণ করুন

কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই হৃদয় প্রশান্তি পায়। যে সংসারে দুজনের মধ্যে আল্লাহর ভয় আছে, সেখানে অহংকার টিকতে পারে না। যে জানে আমাকেও একদিন হিসাব দিতে হবে–সে সঙ্গীর সঙ্গে অন্যায় করতে পারে না। আল্লাহকে সাক্ষী মেনে বিয়ে হয়েছে–তাকে সাক্ষী মেনেই সংসার করুন। (সুরা রাদ, ২৮)

এই লেখা পড়ে যদি আপনার মনে একটুও নাড়া লেগে থাকে–তাহলে এখনই, এই মুহূর্তে, আপনার সঙ্গীর দিকে তাকান। হয়তো সে পাশের ঘরে আছেন। হয়তো রান্নাঘরে। হয়তো ঘুমিয়ে আছেন। যান। শুধু একটু কাছে যান। একটা কথা বলুন–তোমাকে নিয়ে সুখী থাকতে চাই।

ব্যাস। এটুকুই যথেষ্ট শুরু করার জন্য। কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সেরা মুমিন সে, যে তার পরিবারের কাছে সেরা। (তিরমিজি, ৩৮৯৫)

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার