বিজ্ঞাপন
যেসব কারণে বাড়তে পারে শিশুর ডায়াবেটিস ও হার্টের রোগের ঝুঁকি
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম
বিজ্ঞাপন
নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে, শিশুর ভবিষ্যৎ শরীর ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে মায়ের খাদ্যাভ্যাসের ঘনিষ্ঠ যোগ রয়েছে। বিশ্বজুড়ে শিশুদের ডায়াবেটিস ও জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস নিয়ে নানা গবেষণা চলছে।
ভারতের ম্যাটারনাল নিউট্রিশন স্টাডি (পিএমএনএস)-এর গবেষকেরা জানাচ্ছেন, গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে ভিটামিন বি১২ ও ফোলেটের ঘাটতি থাকলে বা মা অপুষ্টিতে ভুগলে, সেই শিশুর পরবর্তী জীবনে টাইপ ২ ডায়াবেটিস ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।
সাধারণভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াবেটিসকে টাইপ ২ এবং শিশুদের ডায়াবেটিসকে টাইপ ১ বলা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, শিশুরাও টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে, এমনকি কৈশোরে টাইপ ৫ ডায়াবেটিসের ঘটনাও বাড়ছে।
শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ইনসুলিন হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। শিশুদের ক্ষেত্রে অনেক সময় অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ইনসুলিনের ঘাটতি দেখা দেয়। আবার কিছু ক্ষেত্রে ইনসুলিন তৈরি হলেও শরীর তা ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারে না, যাকে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বলা হয়।
গবেষকেরা বলছেন, এই সমস্যার শুরু হতে পারে গর্ভকাল থেকেই। গর্ভাবস্থায় মায়ের পুষ্টির অভাব হলে শিশুর বিভিন্ন অঙ্গ, বিশেষ করে অগ্ন্যাশয় সঠিকভাবে গঠিত হয় না, যার প্রভাব পড়ে ইনসুলিন নিঃসরণে।
পুনের গবেষকেরা আরও জানিয়েছেন, আগে ধারণা ছিল শুধুমাত্র গর্ভাবস্থায় হরমোনের তারতম্যের কারণেই মায়ের জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস হয় এবং তার প্রভাব শিশুর উপর পড়ে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, গর্ভধারণের আগেই বা শৈশব থেকেই যদি মায়ের খাদ্যাভ্যাস অস্বাস্থ্যকর হয় ও শরীরে পুষ্টির ঘাটতি থাকে, তা হলে ভবিষ্যতে জেস্টেশনাল ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এর ফলস্বরূপ জন্মের পরে শিশুর ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে। পাশাপাশি সিজারিয়ান ডেলিভারির সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, সংক্রমণ, নবজাতকের রক্তে শর্করা কমে যাওয়া, তীব্র জন্ডিস বা শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে গর্ভাবস্থার ১২–১৫ সপ্তাহের মধ্যে মায়ের রক্ত পরীক্ষা করা হয়। সেই ইতিহাস না থাকলে ১৬–২০ সপ্তাহে পরীক্ষা করা হয়। ফাস্টিং সুগার বা ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্টে সমস্যা ধরা পড়লে আগেভাগেই চিকিৎসা শুরু করা হয় এবং নির্দিষ্ট ডায়েট মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
মা ও শিশুর সুস্থতার জন্য ক্যালোরি হিসেব করে খাবার খাওয়া জরুরি। বাইরের খাবার, প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবার সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
বিজ্ঞাপন