বিজ্ঞাপন
জেনে নিন কনকনে শীতে আপনার শরীরে যে ভিটামিন জরুরি
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
বিজ্ঞাপন
শীতকাল আসার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরেও বিভিন্ন প্রভাব পড়তে শুরু করে। বিশেষ করে ঠান্ডা তাপমাত্রায় ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এ সময় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে। কারণ ঠান্ডায় ভাইরাস খুব সহজেই মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে। এ জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তবে সঠিক পুষ্টি ও সচেতনতায় সেই ঝুঁকি কমানো সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক, শীতকালে আপনার শরীরে যে ভিটামিন প্রয়োজন—
ভিটামিন ’এ’
শীতকালে খাদ্যাভ্যাসে কিছু ভিটামিনের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারলে আপনার সুস্থ থাকা অনেকটা সহজ হয়। সে জন্য দৃষ্টিশক্তির পাশাপাশি শীতকালীন প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রথম স্তর হিসেবে কাজ করে থাকে ভিটামিন ’এ’। এটি আমাদের শ্বাসযন্ত্র ও পাচনতন্ত্রের শ্লেষ্মা ঝিল্লিকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। গাজর, পালংশাক, কুমড়া, টমেটো এবং ছোট মাছের মতো রঙিন শাকসবজি ও ফলমূল ভিটামিন এ-তে ভরপুর থাকে।
ভিটামিন ‘সি’
শীতকালে শরীর সুস্থ রাখতে নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিন ডায়েটে রাখা অপরিহার্য। কারণ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করতে ভিটামিন ’সি’-এর কোনো বিকল্প নেই। এটি শরীরের শ্বেত রক্তকণিকার কার্যকারিতা বাড়িয়ে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কাঁচামরিচ কিংবা পুদিনাপাতা রাখলে সেই ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
আর শীতকালে ছোট দিনে সূর্যের আলোর অভাবে শরীরে ভিটামিন ’ডি‘-এর ঘাটতি দেখা দেয়। অথচ সর্দি-কাশির মতো সংক্রমণ কমাতে ভিটামিন ’ডি’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাড়ের সুরক্ষা ছাড়াও এটি ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। আর সূর্যের আলো ছাড়াও ডিমের কুসুম, চর্বিযুক্ত মাছ এবং মাশরুম থেকে ভিটামিন ’ডি’ পাওয়া যায়।
ভিটামিন ‘ই’
শীতে আপনার শরীরের কোষগুলোকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে ভিটামিন ‘ই’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি টি-কোষের সুরক্ষা নিশ্চিত করে শরীরকে সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচায়। বাদাম, উদ্ভিজ তেল, আভোকাডো এবং সামুদ্রিক মাছ ভিটামিন ই-এর প্রধান উৎস হিসেবে পরিচিত।
ভিটামিন বি৬ ও বি১২
সবশেষে আপনার শরীরের জৈব রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া ঠিক রাখতে এবং অ্যান্টিবডি উৎপাদনের জন্য ভিটামিন বি৬ ও বি১২ ভীষণ প্রয়োজন। ‘ইউরোপীয় জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনে’ প্রকাশিত ২০০৬ সালের একটি গবেষণার প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ভিটামিন বি৬ গুরুতরভাবে অসুস্থ ব্যক্তির রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করতে পারে। এটি ইমিউন কোষ ও অ্যান্টিবডি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। এটি জৈব রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, যা আপনার শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করে।
ওটস, দুধ, ডিম, সামুদ্রিক মাছ এবং বিভিন্ন ধরনের ডালজাতীয় খাবারে এসব ভিটামিন পাওয়া যায়। বিশেষ করে যারা ঘন ঘন ভাইরাল সংক্রমণে আক্রান্ত হন, তাদের জন্য ভিটামিন বি-এর এ ধরনগুলো রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।
বিজ্ঞাপন