Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

হার্টব্লক কী? কখন এবং কেন জরুরি পেসমেকার?

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১০ পিএম

হার্টব্লক কী? কখন এবং কেন জরুরি পেসমেকার?

বিজ্ঞাপন

হৃৎপিণ্ড জন্ম থেকেই লাবডুব ছন্দে রক্ত পাম্প করে আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। আর হৃৎপিণ্ড এমনই এক পাম্প, যা থামলেই জীবনের ইতি। আর নানা কারণে হার্টের পাম্পিং ক্ষমতা অস্বাভাবিক হলে পেসমেকারের প্রয়োজন হয়।

পাম্প চালাতে যেমন ইলেক্ট্রিসিটির প্রয়োজন, হার্টের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই। সাধারণত বেশি বয়সে কখনো বা জন্মগত কারণে হার্টে ইলেকট্রিক সাপ্লাই কমে গেলে হার্টব্লক হয়।

হৃৎপিণ্ডের পাম্প করার ক্ষমতা কমতে শুরু করে। ফলে মস্তিষ্কসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত চলাচল কমে গিয়ে রোগী ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়েন। শ্বাসকষ্ট হয়ে যখন-তখন ব্ল্যাক আউট হয়ে যান। ওষুধ ও পেসমেকারের সাহায্যে এ সমস্যার সমাধান করা হয়।

সে জন্য পেসমেকার দরকার পড়ে। গুরুতর রোগী, যাদের হাইব্লাড প্রেশার, রাইট বান্ডল ব্র্যাঞ্চ ব্লক ও জটিল অ্যান্টেরিয়র বা পস্টেরিয়র ফ্যাসিক্যুলার ব্লক থাকে, সমস্যা বেড়ে কমপ্লিট হার্টব্লকের দিকে এগোয়, দুটি ক্ষেত্রেই মাঝে মাঝে সিনকোপ বা ব্ল্যাক আউট হয়, জন্মগতভাবে হার্টব্লক থাকে, যাদের দিনভর শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা থাকে, তাদের পেসমেকার প্রতিস্থাপন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা যায়। তবে কোন রোগীকে পেসমেকার দিয়ে চিকিৎসা করা হবে, সেই রোগীকে খুঁটিয়ে দেখে তবেই চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেবেন।

হাইব্লাড প্রেশারের রোগীদের ঝুঁকি বেশি থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে ঠিক সময়ে অসুখ ধরা পড়লে এবং কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ মেনে চললে ভয়ের কিছু থাকে না। জন্মগত হার্টব্লক হলে অল্প বয়সেই পেসমেকার প্রয়োজন হয়।

বেশি বয়সে সমস্যা হলে সমস্যা। কারণ ৭০-৮০ বছরে হার্টব্লক হয় ধীরে ধীরে। ফলে কষ্টটা শরীর কিছুটা মানিয়ে নেয়। লক্ষণ খুব একটা তীব্র হয় না। চলাফেরা করলে শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি ও দুর্বলতা থাকে। রোগ বেড়ে গেলে কয়েক সেকেন্ডের জন্য অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় টেস্ট করে পেসমেকার বসাতে বলেন।

আরও পড়ুন
আর হার্টব্লকের চিকিৎসায় প্রধানত দুই রকম পেসমেকার ব্যবহার করা হয়। সিঙ্গেল চেম্বার ও ডুয়েল চেম্বার। সিঙ্গেল চেম্বার মানে হার্টের একটা চেম্বারে ইলেকট্রিক ইম্পালস পাঠানো হয়, ডুয়েলে দুটোটেই। ভালো কাজ করার জন্য সিঙ্গেল ও ডুয়েল চেম্বার দুইয়ের সঙ্গে রেট রেসপনসিভ পেসমেকার জুড়ে দিয়ে রোগীকে আরও বেশি ভালো রাখা যাচ্ছে। যেসব বয়স্ক মানুষ বাড়িতে থাকেন, অল্পস্বল্প কাজ করেন, তার এক ধরনের শক্তি দরকার। অন্যদিকে যারা দৌড়ঝাঁপ করেন তার বেশি শক্তির পাম্প দরকার।

মূলত তিন ধরনের ব্লক দেখা যায়।

  • রাইট বান্ডল ব্র্যাঞ্চ ব্লক (আরবিবি)
  • বাইফ্যাসিক্যুলার ব্লক (বিবি)
  • লেফট বাগুল ব্র্যাঞ্চ ব্লক (এলবিবি)

সব থেকে বেশি দেখা যায় আরবিবি। হাইব্লাড প্রেশারের রোগীদের এ সমস্যার ঝুঁকি বেশি থাকে। লেফট বান্ডল ব্লক থাকলে এদের হয় ইসকিমিক হার্ট ডিজিজ কিংবা কার্ডিওমায়োপ্যাথি অর্থাৎ হৃৎপিণ্ডের পেশি দুর্বল হয়ে পাম্পিং ক্ষমতা কমে যেতে পারে। এলবিবির রোগীদের যদি মাথা ঘোরে বা ব্ল্যাক আউট হয়ে যায়, এদের অবশ্যই পেসমেকার বসাতে হয়।

বাইফ্যাসিক্যুলার হার্টব্লক থাকলে ১০ বছরের মধ্যে ৬০ শতাংশের ক্ষেত্রে কমপ্লিট হার্টব্লক হয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া ও ব্ল্যাক আউটের ঝুঁকি বাড়ে। এদের পেসমেকার প্রতিস্থাপন করতে হয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার