Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে কেন এত আলোচনা

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম

দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে কেন এত আলোচনা

বিজ্ঞাপন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ করেই দ্বিতীয় বিয়েকে ঘিরে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ প্রশ্ন তুলছেন, প্রথম স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও কেন দ্বিতীয় বিয়ে করা যায়, কেউ জানতে চাইছেন আর্থিক সক্ষমতার বিষয়; আবার কেউ জানতে চাইছেন প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া কি দ্বিতীয় বিয়ে সম্ভব। এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৬ ধারা (বহুবিবাহ) এবং হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়।

আইনজীবী ইশরাত জাহান ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন। তার যুক্তি ছিল, এই ধারা নারীর সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। তিনি বলেন, ইসলামে একাধিক বিয়ের অনুমতি থাকলেও শর্ত হিসেবে সব স্ত্রীর প্রতি সমান সুবিচারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আইনে সেই শর্ত বাস্তবায়নের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। শুধু ‘বিয়ে করার অনুমতি’ অংশটি নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু ভরণপোষণ, আর্থিক সক্ষমতা বা সুবিচারের যাচাই করার সুযোগ সালিশি কাউন্সিলের নেই। ফলে নারীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

হাইকোর্টের রুল ও চূড়ান্ত রায়: রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ একটি রুল জারি করেন। রুলে বহুবিবাহ সংক্রান্ত আইনের বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন এবং স্ত্রীর সম-অধিকার নিশ্চিত না করে বহুবিবাহের অনুমতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। রুলের শুনানি শেষে ২০ আগস্ট হাইকোর্ট রুল খারিজ করেন। ফলে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৬ ধারা বহাল থাকে।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, এই ধারা কোনোভাবেই বৈষম্যমূলক বা স্বেচ্ছাচারী নয়। আইন নারী ও পুরুষ, কোনো পক্ষেরই মৌলিক অধিকার খর্ব করে না। সালিশি কাউন্সিল একতরফাভাবে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না এবং বহুবিবাহের অনুমতি দেওয়ার বা না দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। এই ধারা দেশের নারীদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। রুল সমর্থনে উত্থাপিত যুক্তির সারবত্তা নেই বলে রুল ডিসচার্জ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন
দ্বিতীয় বিয়েতে অনুমতি: মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৬(১) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় তিনি সালিশি কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ছাড়া আরেকটি বিয়ে করতে পারবেন না। অনুমতি ছাড়া করা বিয়ে নিবন্ধনযোগ্যও নয়। আবেদনকারীকে নির্ধারিত ফি দিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদনে প্রস্তাবিত বিয়ের কারণ ও বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্মতি উল্লেখ করতে হবে। চেয়ারম্যান আবেদনকারী ও বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীর প্রতিনিধি মনোনয়ন করতে বলবেন। সালিশি কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিয়ে প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত মনে করলে অনুমতি দিতে পারবেন। অনুমতির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সহকারী জজের কাছে পুনর্বিবেচনার সুযোগও রয়েছে।

অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে শাস্তি ও জরিমানা: সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের দেনমোহরের পুরো টাকা তাৎক্ষণিক পরিশোধ করতে হবে। অর্থ পরিশোধ না করলে তা ভূমি রাজস্বের মতো আদায়যোগ্য। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এক বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

আইনজীবী ইশরাত জাহান বলেন, বহুদিন ধরে ভুলভাবে বলা হচ্ছিল, দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রথম স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক। বাস্তবে আইনে কোথাও প্রথম স্ত্রীর অনুমতিকে শর্ত করা হয়নি। শুরু থেকেই সালিশি কাউন্সিলের অনুমতির বিধান ছিল। হাইকোর্ট নতুন কিছু বলেননি, রুল খারিজের মাধ্যমে আগের অবস্থান বহাল রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রিটের উদ্দেশ্য ছিল সালিশি কাউন্সিলের ক্ষমতা একতরফাভাবে প্রয়োগ না করে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা, স্ত্রীর সম-অধিকার নিশ্চিত করা এবং একাধিক বিয়ের জন্য আবেদনকারীর শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার