Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

ইফতারের পর মাথাব্যথার সমস্যা দূর করার উপায়

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম

ইফতারের পর মাথাব্যথার সমস্যা দূর করার উপায়

বিজ্ঞাপন

রোজা রাখার পর সারাদিনের ক্লান্তি শেষে ইফতারের টেবিলে বসা—একটা অন্যরকম স্বস্তি। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রেই ঠিক এই সময়েই মাথা ভারী হয়ে ওঠে, কপালে টনটন ব্যথা শুরু হয় কিংবা চোখের ওপর চাপ অনুভূত হয়। আনন্দের মুহূর্তে এই অস্বস্তি বেশ বিরক্তিকর হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়–এর আবাসিক চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন জানান, এ ধরনের ব্যথাকে বলা হয় ‘ফাস্টিং হেডেক’ বা উপবাসজনিত মাথাব্যথা। এটি সাধারণত মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কপাল বা মাথার দুপাশে অনুভূত হয়। সুখবর হল—খাবার গ্রহণের পর সাধারণত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ব্যথা সেরে যায়।

কেন হয় এই মাথাব্যথা?

১. পানিশূন্যতা

সারাদিন না খাওয়া-না পান করার ফলে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। এতে রক্তনালীগুলো সংকুচিত হতে পারে, যা মাথাব্যথার কারণ হয়। ইফতারে হঠাৎ অনেক পানি পান করলেই সমাধান হয় না—দিনভর ঘাটতির প্রভাব তখনও থাকে।

২. ক্যাফেইন ‘উইথড্রয়াল’

যারা নিয়মিত চা বা কফি পান করেন, তারা রোজার সময় ক্যাফেইন না পেলে মাথাব্যথায় ভুগতে পারেন। সাধারণত শেষবার ক্যাফেইন নেওয়ার প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর এই ব্যথা শুরু হতে পারে।

৩. রক্তে শর্করার স্বল্পতা

দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায়। এতে মস্তিষ্কের ব্যথা-সংবেদনশীল অংশ উত্তেজিত হয়ে ব্যথা তৈরি করতে পারে। যাদের আগে থেকেই মাইগ্রেইনের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে রোজা এই ব্যথাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

কখন সতর্ক হবেন?

সাধারণ ‘ফাস্টিং হেডেক’ মৃদু বা মাঝারি হয় এবং দপদপ করে না। তবে যদি- ব্যথা খুব তীব্র হয়, ঘাড় শক্ত হয়ে যায়, শরীরের কোনো অংশ অবশ লাগে অথবা বমি, জ্বর বা বিভ্রান্তি দেখা দেয় তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। এগুলো অন্য কোনো জটিল সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?

পর্যাপ্ত পানি পান: 

ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত অল্প অল্প করে বারবার পানি পান করুন। একসঙ্গে বেশি পানি পান করলে অস্বস্তি হতে পারে।

ক্যাফেইন ধীরে কমান:

রোজার আগে থেকেই চা-কফির পরিমাণ কমিয়ে আনুন। এতে ‘উইথড্রয়াল’ জনিত মাথাব্যথা কম হবে।

সুষম সেহরি: 

সেহরিতে প্রোটিন (ডিম, দই, ডাল), জটিল শর্করা (ওটস, লাল চাল) ও শাকসবজি রাখুন। এসব খাবার দীর্ঘ সময় রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও চিনি এড়িয়ে চলাই ভালো। 

বিশ্রাম ও মানসিক স্বস্তি: 

রমজানে ঘুমের ছন্দ বজায় রাখা জরুরি। সেহরির পর কিছুটা ঘুম এবং দিনে ২০–৩০ মিনিটের ‘পাওয়ার ন্যাপ’ ক্লান্তি কমাতে সহায়ক। হালকা ব্যায়াম, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা ধ্যান মানসিক চাপ কমায়।

রমজানে মাথাব্যথা অনেকের কাছেই পরিচিত সমস্যা। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান, ক্যাফেইন নিয়ন্ত্রণ ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের মাধ্যমে এটি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার