Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

ভ্যাপসা গরমে স্বস্তি পেতে কী খাবেন, কেমন হবে যাপিত জীবন

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম

ভ্যাপসা গরমে স্বস্তি পেতে কী খাবেন, কেমন হবে যাপিত জীবন

বিজ্ঞাপন

বৈশাখের প্রথম দিনেই ভ্যাপসা আবহাওয়ার আঁচ পেয়েছে দেশবাসী।ঢাকাসহ সারাদেশে আবহাওয়া শুষ্ক বিরাজ করছে। এই কাঠফাটা গরমের মধ্যে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপন করাটাই বিশাল চ্যালেঞ্জ।

আবহাওয়ার ওপর আমাদের হাত না থাকলেও সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং সঠিক জীবনযাপনের মাধ্যমে সুস্থ ও স্বস্তির সঙ্গে সুস্থ ও নিরোগ থাকতে পারি, যদি আমরা একটু সচেতন হই। 

প্রচণ্ড গরমে সুস্থ থাকতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করা এবং পুষ্টিকর ও সুষম খাবারের সঠিক সমন্বয় করা। এই তীব্র গরমের সময় সুস্থ থাকতে চাইলে যেমন পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে, তেমন কিছু খাবার খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে।

গরমের সময় স্বস্তি পেতে যেসব খাবার বাদ দেওয়া ভালো সেগুলো হলো : অতিরিক্ত চিনিযুক্ত শরবত, কোমল পানীয় কিংবা বাজারের প্যাকেটজাত শরবত, চা, কফি, অ্যালকোহল ইত্যাদি। অতিরিক্ত তেলে ভাজাপোড়া খাবার। অতিরিক্ত মিষ্টি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার। অতিরিক্ত তেল ও মসলাযুক্ত গুরুপাক খাবার। অতিরিক্ত গরু ও খাসির মাংসের নানারকম খাবার। প্রক্রিয়াজাত খাবার খাবার, ফাস্টফুড ইত্যাদি অস্বাস্থ্যকর খাবার যতই মুখরোচক হোক না কেন, সুস্থ ও নিরোগ থাকতে চাইলে বাদ দিতে হবে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা থেকে।

প্রশ্ন হতে পারে, এসব খাবার কেন বাদ দেব? সারা দিনের গরমে আমাদের শরীরে এমনিতেই পানির ঘাটতি থাকে। এর মধ্যে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত শরবত খেলে তা তো আমাদের কোনো উপকারে আসবেই না বরং অতিরিক্ত চিনি কোষের পানি শুষে নেয়; ফলে শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে। এর ফলে অবসাদ, অতিরিক্ত ক্লান্তি কিংবা তীব্র মাথাব্যথাও হতে পারে। এতে গরমের দিনে স্বাভাবিক জীবনযাপনটাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এ ছাড়া যারা ওজনাধিক্যে ভুগছেন, তারা চিনিযুক্ত শরবত খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব কঠিন হয়ে যায়। এ ছাড়া কাঠফাটা গরমে অতিরিক্ত তেলে পোড়া খাবার খেলে ট্রান্সফ্যাট বেড়ে যেতে পারে। এতে করে এসিডিটি, পেটে গ্যাসের সমস্যা, কন্সটিপেশন কিংবা আলসারও হতে পারে। তাই এই তীব্র গরমে সারা দিন সুস্থ থাকতে চাইলে অতিরিক্ত তেলে ভাজাপোড়া ও মিষ্টিজাতীয় খাবার না খাওয়াই ভালো।

যা খাবেন

তীব্র গরমের সময় সুস্থ থাকতে চাইলে সঠিকভাবে খাবার নির্বাচন করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি উপযুক্ত পরিমাণ এবং সুষম খাবার গ্রহণ করি, তাহলে সারাদিন সুস্থভাবে জীবনযাপন করাটা আমাদের জন্য সহজ হবে। এই গরমের সময় প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা হতে হবে সহজ, সুপাচ্য, সহজে হজমযোগ্য, পর্যাপ্ত ক্যালরিসমৃদ্ধ সুষম খাবারের সমন্বয়। খাদ্য তালিকায় সব গ্রুপের খাবার থাকতে হবে; যেমন-প্রোটিন, শর্করা, ফ্যাট, ভিটামিন ও মিনারেলযুক্ত খাবার এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবারজাতীয় খাবার। এক্ষেত্রে সম্ভব হলে লাল চালের ভাত কিংবা লাল আটার রুটি খেতে পারলে ভালো। 

কারণ, লাল চাল ও লাল আটাতে ক্যালোরি কম, কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার বা খাদ্য আঁশ রয়েছে, যা আমাদের পেটে অনেকক্ষণ থেকে আমাদের ক্ষুধা লাগা থেকে বিরত থাকতে এবং সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে সাহায্য করবে। এই তীব্র গরমে অতিরিক্ত প্রথম শ্রেণির প্রোটিন গ্রহণ না করাই ভালো। প্রোটিন হিসাবে গরু বা খাসির মাংস না খেয়ে মাছের ঝোল রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। দুধের পরিবর্তে টক দইয়ের শরবত বা মাঠা রাখতে পারেন খাদ্য তালিকায়। দই হচ্ছে খুব ভালো মানের প্রোবায়োটিক, যা খারাপ ব্যাকটেরিয়াগুলোকে মেরে ফেলে ভালোমানের ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে হজমে সহায়তা করে এবং গ্যাস্টোইন্টেস্টাইলকে সুস্থ রাখে। গরমের দিনে চিড়া-দই-কলা কিংবা দুধ-চিড়া-কলাও খেতে পারেন, এতে করে পেট ঠান্ডা থাকবে এবং এর মধ্যে সব পুষ্টি উপাদানও পাবেন।

এ সময় খেতে পারেন ডাবের পানি, তরমুজ, বাঙ্গি, তালের শাঁস, বেলের শরবত, তাজা ফলের জুস কিংবা রস, খাবার স্যালাইন অথবা লেবুর শরবত। এতে করে শরীরের পানির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ইলেক্ট্রোলাইটের ব্যালেন্স হবে খুব সহজে।

আরও পড়ুন
আর হ্যাঁ, খাবারের পাশাপাশি জীবনযাপনের মধ্যেও আনতে হবে কিছুটা পরিবর্তন। তীব্র রোদের মধ্যে কাজ না থাকলে ঘরে থাকাই শ্রেয়। সম্ভব হলে ভরদুপুরে বাইরে বের না হয়ে বিকাল, সন্ধ্যায় বের হতে পারেন। আর তীব্র রোদের মধ্যে যদি বের হতেই হয়, তাহলে তিনটি জিনিস সঙ্গে নিতে ভুলবেন না : ছাতা, রোদচশমা এবং বিশুদ্ধ পানির বোতল। এতে যতটা সম্ভব নিজেকে রক্ষা করা যাবে হিট স্ট্রোক থেকে।

লেখক : পুষ্টিবিদ, উত্তরা ক্রিসেন্ট হসপিটাল, ঢাকা

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার