গরমকালে সাঁতার কাটা, গোসল করা বা মুখ ধোয়ার সময় কানে পানি ঢুকে আটকে যাওয়া খুব সাধারণ একটি ঘটনা। এতে কানে অদ্ভুত রকমের ঝাঁঝালো অনুভূতি হয়, শব্দ ঠিকমতো শোনা যায় না এবং টান টান অস্বস্তি থুতনির দিকেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বেশিরভাগ সময় পানি নিজে থেকেই বেরিয়ে আসে। তবে না বের হলে কানের ভেতরের আর্দ্রতা ‘সুইমার'স ইয়ার’ নামে পরিচিত সংক্রমণের কারণ হতে পারে। কয়েকটি সহজ ঘরোয়া পদ্ধতিতে এই পানি বের করা সম্ভব। চলুন জেনে নিই কিভাবে তা করব-
১. কানের লতি নেড়ে দেখা
মাথা একপাশে কাত করে কানের লতিকে আলতোভাবে টেনে নড়াচড়া করুন। এতে আটকে থাকা পানি অনেক সময় দ্রুত বের হয়ে আসে। চাইলে মাথা দুদিকে নেড়ে নড়াচড়া করেও চেষ্টা করা যায়।
২. আক্রান্ত পাশ নিচে করে শোয়া
তোয়ালে বা বালিশের ওপর মাথা রেখে সমস্যার দিকটি নিচে করে শুয়ে থাকুন। অল্প সময়েই পানি নিচের দিকে গড়িয়ে বের হয়ে যেতে পারে।
৩. হাত দিয়ে ভ্যাকুয়াম তৈরি করা
মাথা কাত করে কানের ওপরে হাতের তালু চেপে ধরে আবার ছেড়ে দিন। চাপ দিলে তালু চ্যাপটা হয়, আর ছেড়ে দিলে কাপের মতো হয়। এই ভ্যাকুয়াম প্রক্রিয়ায় ভেতরের পানি বেরিয়ে আসতে পারে।
৪. হালকা গরম হাওয়া দেওয়া
হেয়ার ড্রায়ারকে সবচেয়ে কম তাপমাত্রায় রেখে প্রায় এক ফুট দূর থেকে কানের দিকে গরম হাওয়া দিন। কানের লতি টেনে রাখলে বাতাস সহজে ভেতরে গিয়ে জমে থাকা পানি শুকিয়ে যেতে পারে।
৫. ইয়ারড্রপ বা স্প্রে ব্যবহার
বাজারে পাওয়া ওটিসি ইয়ারড্রপ পানিকে শুকাতে সাহায্য করতে পারে, বিশেষত যখন ইয়ারওয়াক্সের কারণে পানি আটকে থাকে। সাধারণভাবে পাওয়া যায়—
> অ্যালকোহলভিত্তিক ড্রপ
> হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড বা কারবামাইড পারঅক্সাইড
> অলিভ অয়েল বা আমন্ড অয়েলভিত্তিক ড্রপ
> গ্লিসারলভিত্তিক ড্রপ
> কানের পর্দায় ছিদ্র থাকলে
> মাঝকান বা ভেতরের কানের সংক্রমণ থাকলে
> রক্ত, পুঁজ বা তরল বের হলে
> কান ব্যথা, ফোলা বা আঘাতের চিহ্ন থাকলে
> কানে টিউব থাকলে
কখন ডাক্তার দেখানো প্রয়োজন
সাধারণত ১–২ দিনের মধ্যে পানি নিজে থেকেই বের হয়ে যায়। যদি না হয় তবে—
> পানি ২–৩ দিনেও না বের হলে
> কান ফুলে গেলে বা ব্যথা শুরু হলে
> দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ বের হলে
> শুনতে সমস্যা বা ব্লক অনুভূত হলে
তাহলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। দেরি হলে ‘সুইমার'স ইয়ার’ গুরুতর হয়ে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
যেসব জিনিস কখনো ব্যবহার করা যাবে না
> কটন বাড
> আঙুল
> ক্লিপ, কলম, ম্যাচসহ যেকোনো ধারালো জিনিস
এগুলো কানে আরও ক্ষতি করতে পারে, পানি গভীরে ঠেলে দিতে পারে বা কানের পর্দা ছিদ্র হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। যদিও কানে পানি ঢুকে আটকে যাওয়া বিরক্তিকর, তবুও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘরোয়া উপায়েই সহজে ঠিক হয়ে যায়। তবে ব্যথা বা অস্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।